ঢাকা ০৮:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০২৪, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
শেখ হাসিনার ৪৪তম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালিত বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হাতিয়ার এমপি মোহাম্মদ আলীর ছেলে আশিক আলি অমি, অন্যরাও সরে দাঁড়ালেন না। জেলা আওয়ামিলীগের সংবাদ সম্মেলন সার্বজনীন পহেলা বৈশাখ বা পয়েলা বৈশাখ – লেখকঃ  আসসাদুজ্জামান আরমান  (প্রকাশক ও সম্পাদক) মুরগির ওজন বৃদ্ধির জন্য খাওয়ানো হচ্ছে ইটের কণা ডিজিটাল মিটারের অফলাইন এবং অনলাইন সেবাতে বিভ্রান্ত গ্রাহক নোয়াখালীতে মোটরসাইকেল চোর চক্রের ০২ সদস্য গ্রেফতার সহ ০৭ টি চোরাই মোটর সাইকেল উদ্ধার নোয়াখালী শহীদ ভুলু স্টেডিয়ামে স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবস উৎযাপন স্বাধীনতা দিবসে বীর শহীদদের প্রতি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন নোয়াখালী পৌরসভায় কিশোরগ্যাং এর উৎপাত বাড়ছে নোয়াখালীর সদর উপজেলায় অগ্নিকাণ্ডে এক ব্যক্তি নিহত ও একই পরিবারের তিনজন দগ্ধ

সার্বজনীন পহেলা বৈশাখ বা পয়েলা বৈশাখ – লেখকঃ  আসসাদুজ্জামান আরমান  (প্রকাশক ও সম্পাদক)

News Desk
  • আপডেট সময় : ০৭:১৭:৫৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৪ ৩০ বার পড়া হয়েছে

১৫৫৬ খ্রিষ্টাব্দে ৯৬৩ হিজরিতে মুঘল সম্রাট জালাল উদ্দিন মুহাম্মদ আকবর এর মসনদে আরোহনের সময় থেকে বাংলা পঞ্জিকার শুরু। ইংরেজি পঞ্জিকাতে রাত ১২.১ মিনিট থেকে দিন গনণা শুরু হয় , আরবি পঞ্জিকাতে চাঁদের উপর ভিত্তি করে তৈরি ।কিন্তু বাংলা পঞ্জিকা নির্ভর করে সৌর অর্থ্যাত সূর্যালোকের উপর, সূর্য উদয়ের সময় থেকে দিন গননা শুরু। পরবর্তীতে বাংলা একাডেমী ১৪০২ বঙ্গাব্দের আন্তর্জাতিক সময়ের সাথে মিল রেখে রাত ১২.১ মিনিটে দিন গননা শুরু হয়। যদিও নানা রকমের মতামত রয়েছে তা নিয়ে । তবে পশ্চিমবঙ্গে চন্দ্র-সৌর বাংলা পঞ্জিকা অনুসরন করায় ১৫ই এপ্রিল পহেলা বৈশাখ পালন করা হয়।

বাঙ্গালী জাতীর একটি সার্বজনীন উৎসব পহেলা বৈশাখ। এটি সর্বপ্রথম পুরান ঢাকার মুসলিম মাহিফরাস সম্প্রদায়ের মানুষ শুরু করে। পরবর্তীতে ধীরে ধীরে সকল পর্যায়ের মানুষ এটিকে নিজেদের উৎসবে রুপান্তরীত করে । আর ব্যবসায়ীরা বাংলা বর্ষের পঞ্জিকা অনুসারে ব্যবসায়ীক হিসাব গননা শুরু করে। বাংলা সালের প্রথম মাস বৈশাখ, আর তাই বৈশাখের প্রথম দিনকে আনন্দ উৎসবের মধ্যে দিয়ে উদযাপন করা হয়।এই দিনে কৃষক তার কর্ম শুরু করে , ব্যবসায়ীরা ব্যবসা, জমিদাররা তাদের খাজনা আদায় করত, যা আজ বিলুপ্ত । আর ব্যবসায়ীরা বাকী টাকা উত্তোলনে হালখাতার আয়োজন করে , পাওনা টাকা আদায় করার জন্য।  আয়োজনে আনা হয় বহুমাত্রিক উৎসব ,যা অনেক অঞ্চলে চলে মাসব্যপী। উৎসবে বহুমাত্রিক আয়োজন সকাল থেকে শুরু হয়। প্রিয় এবং সহজলভ্য ভাল খাবারের আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় পহেলা বৈশাখের উৎসব।

১৯২০ সালের আগে ভাল কাপড় পরে বাঙ্গালিরা জমিদারদের বাড়িতে যেত খাজনা দেওয়ার জন্য। বিখ্যাত সকল লেখকেরা এটিকে পুল্যাহ বলে উল্লেখ করেছেন। বিভিন্ন এলাকায় মেলার আয়োজন হয়। সেখানে নাচ গান দোকান পাট বসতো প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের, যেটি এখনো চোখে পড়ে।তার মধ্যে পড়ে মাটির তৈরি হাড়,পুতুলের মেলা, যা দরগা মেলা হিসেবে সবার কাছে পরিচিত। বিভিন্ন এলাকায় লাঠিখেলা , গরুর দৌড় এবং গ্রাম গঞ্জের বহু জনপ্রিয় খেলার মাধ্যমে আয়োজন হয় মেলার।

গ্রাম বাংলার ইতিহাস, ঐতিহ্য, হাসি, কান্না,সংসার,বৈরাগ্য, কর্ম,ব্যাবসা, আনন্দ, বেদনার এক বহিঃপ্রকাশ বাংলা নববর্ষ, পহেলা বৈশাখ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

সার্বজনীন পহেলা বৈশাখ বা পয়েলা বৈশাখ – লেখকঃ  আসসাদুজ্জামান আরমান  (প্রকাশক ও সম্পাদক)

আপডেট সময় : ০৭:১৭:৫৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৪

১৫৫৬ খ্রিষ্টাব্দে ৯৬৩ হিজরিতে মুঘল সম্রাট জালাল উদ্দিন মুহাম্মদ আকবর এর মসনদে আরোহনের সময় থেকে বাংলা পঞ্জিকার শুরু। ইংরেজি পঞ্জিকাতে রাত ১২.১ মিনিট থেকে দিন গনণা শুরু হয় , আরবি পঞ্জিকাতে চাঁদের উপর ভিত্তি করে তৈরি ।কিন্তু বাংলা পঞ্জিকা নির্ভর করে সৌর অর্থ্যাত সূর্যালোকের উপর, সূর্য উদয়ের সময় থেকে দিন গননা শুরু। পরবর্তীতে বাংলা একাডেমী ১৪০২ বঙ্গাব্দের আন্তর্জাতিক সময়ের সাথে মিল রেখে রাত ১২.১ মিনিটে দিন গননা শুরু হয়। যদিও নানা রকমের মতামত রয়েছে তা নিয়ে । তবে পশ্চিমবঙ্গে চন্দ্র-সৌর বাংলা পঞ্জিকা অনুসরন করায় ১৫ই এপ্রিল পহেলা বৈশাখ পালন করা হয়।

বাঙ্গালী জাতীর একটি সার্বজনীন উৎসব পহেলা বৈশাখ। এটি সর্বপ্রথম পুরান ঢাকার মুসলিম মাহিফরাস সম্প্রদায়ের মানুষ শুরু করে। পরবর্তীতে ধীরে ধীরে সকল পর্যায়ের মানুষ এটিকে নিজেদের উৎসবে রুপান্তরীত করে । আর ব্যবসায়ীরা বাংলা বর্ষের পঞ্জিকা অনুসারে ব্যবসায়ীক হিসাব গননা শুরু করে। বাংলা সালের প্রথম মাস বৈশাখ, আর তাই বৈশাখের প্রথম দিনকে আনন্দ উৎসবের মধ্যে দিয়ে উদযাপন করা হয়।এই দিনে কৃষক তার কর্ম শুরু করে , ব্যবসায়ীরা ব্যবসা, জমিদাররা তাদের খাজনা আদায় করত, যা আজ বিলুপ্ত । আর ব্যবসায়ীরা বাকী টাকা উত্তোলনে হালখাতার আয়োজন করে , পাওনা টাকা আদায় করার জন্য।  আয়োজনে আনা হয় বহুমাত্রিক উৎসব ,যা অনেক অঞ্চলে চলে মাসব্যপী। উৎসবে বহুমাত্রিক আয়োজন সকাল থেকে শুরু হয়। প্রিয় এবং সহজলভ্য ভাল খাবারের আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় পহেলা বৈশাখের উৎসব।

১৯২০ সালের আগে ভাল কাপড় পরে বাঙ্গালিরা জমিদারদের বাড়িতে যেত খাজনা দেওয়ার জন্য। বিখ্যাত সকল লেখকেরা এটিকে পুল্যাহ বলে উল্লেখ করেছেন। বিভিন্ন এলাকায় মেলার আয়োজন হয়। সেখানে নাচ গান দোকান পাট বসতো প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের, যেটি এখনো চোখে পড়ে।তার মধ্যে পড়ে মাটির তৈরি হাড়,পুতুলের মেলা, যা দরগা মেলা হিসেবে সবার কাছে পরিচিত। বিভিন্ন এলাকায় লাঠিখেলা , গরুর দৌড় এবং গ্রাম গঞ্জের বহু জনপ্রিয় খেলার মাধ্যমে আয়োজন হয় মেলার।

গ্রাম বাংলার ইতিহাস, ঐতিহ্য, হাসি, কান্না,সংসার,বৈরাগ্য, কর্ম,ব্যাবসা, আনন্দ, বেদনার এক বহিঃপ্রকাশ বাংলা নববর্ষ, পহেলা বৈশাখ।