ঢাকা ০৮:০৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০২৪, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
শেখ হাসিনার ৪৪তম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালিত বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হাতিয়ার এমপি মোহাম্মদ আলীর ছেলে আশিক আলি অমি, অন্যরাও সরে দাঁড়ালেন না। জেলা আওয়ামিলীগের সংবাদ সম্মেলন সার্বজনীন পহেলা বৈশাখ বা পয়েলা বৈশাখ – লেখকঃ  আসসাদুজ্জামান আরমান  (প্রকাশক ও সম্পাদক) মুরগির ওজন বৃদ্ধির জন্য খাওয়ানো হচ্ছে ইটের কণা ডিজিটাল মিটারের অফলাইন এবং অনলাইন সেবাতে বিভ্রান্ত গ্রাহক নোয়াখালীতে মোটরসাইকেল চোর চক্রের ০২ সদস্য গ্রেফতার সহ ০৭ টি চোরাই মোটর সাইকেল উদ্ধার নোয়াখালী শহীদ ভুলু স্টেডিয়ামে স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবস উৎযাপন স্বাধীনতা দিবসে বীর শহীদদের প্রতি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন নোয়াখালী পৌরসভায় কিশোরগ্যাং এর উৎপাত বাড়ছে নোয়াখালীর সদর উপজেলায় অগ্নিকাণ্ডে এক ব্যক্তি নিহত ও একই পরিবারের তিনজন দগ্ধ

সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাত, যে বার্তা দিলেন খালেদা জিয়া

News Desk
  • আপডেট সময় : ০৫:৫২:৫২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৩ ১৬৫ বার পড়া হয়েছে

ছবি: ইন্টারনেট।

বিশেষ প্রতিবেদক:  প্রায় ১০ মাস পর দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বিএনপির সিনিয়র নেতারা। শনিবার ঈদুল ফিতরের রাতে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে স্থায়ী কমিটির আট সদস্য গুলশানের ভাড়া বাসা ফিরোজায় তার সঙ্গে দেখা করেন। রাত ৮টা থেকে এক ঘণ্টারও বেশি সময় তারা খালেদা জিয়ার সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময় করেন।

সাক্ষাৎ শেষে বেরিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, তিনি (খালেদা জিয়া) বার্তা দিয়েছেন দেশবাসী যেন গণতন্ত্রের জন্য যেভাবে কাজ করছেন, সেভাবে কাজ চালিয়ে যান।
মির্জা ফখরুল বলেন, অনেকদিন পর তাদের সঙ্গে দেখা হওয়ায় বিএনপি নেত্রী দেশের বর্তমান অবস্থা এবং ভবিষ্যৎ সম্পর্কেও জানতে চেয়েছেন। তারা এসব বিষয়ে তাকে অবহিত করেছেন।

বিএনপির নেতারা জানান, দীর্ঘদিন পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবার ব্যতিক্রম ঈদ করেছেন। কারণ, এই ঈদে খালেদা জিয়ার সঙ্গে রয়েছেন তার পুত্রবধূ শর্মিলী রহমান এবং দুই নাতনি জাফিয়া রহমান ও জাহিয়া রহমান। ঢাকার গুলশানের বাসভবন ফিরোজায় তারা ঈদের আনন্দ ভাগ করেছেন। খালেদা জিয়ার বোন সেলিমা ইসলাম ও ভাই শামীম এস্কান্দারসহ পরিবারের সদস্যরা ঈদের দিন দুপুরে তার সঙ্গে দেখা করেন। নাতনি, পূত্রবূধসহ ভাই-বোনদের নিয়ে দুপুরের খাবার খান খালেদা জিয়া।

প্রসঙ্গত, প্রয়াত আরাফাত রহমানের স্ত্রী এবং দুই মেয়ে খালেদা জিয়ার সঙ্গে ঈদ করার জন্য কয়েকদিন আগে লন্ডন থেকে ঢাকায় এসেছেন।

সাক্ষাৎ শেষে বিএনপি মহসচিব বলেন, ‘সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি (খালেদা জিয়া) কারাগারে আটক দলের নেতাকর্মীদের বিষয়েও জানতে চেয়েছেন। তাদের যে কষ্ট, সে সম্পর্কে তিনি অবহিত আছেন। দেশের হাজার হাজার মানুষের বিরুদ্ধে যে মিথ্যা মামলা, সেগুলো সম্পর্কেও তিনি অবহিত আছেন। যেভাবে দ্রব্যমূল্য বাড়ছে, অর্থনীতির অবস্থা যে দিনদিন খারাপ হচ্ছে, তা অবহিত আছেন।

অনেকদিন পর দলের চেয়ারপারসনের সঙ্গে দেখা হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘কারাগারে যাওয়ার পর তার সঙ্গে সাক্ষাৎ আমাদের অনেক সীমিত ছিল। তিনি বাসায় আসার পর ঈদের দিনগুলোয় তার সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পাই। অনেকদিন পর সেজন্য সবাই কিছুটা আবেগাপ্লুত ছিলাম। আশা করি, তার সঙ্গে আরও ঘন ঘন সাক্ষাৎ হবে এবং সামনে বেরিয়ে আসবেন।’

খালেদা জিয়া এখনো অসুস্থ জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, তিনি (খালেদা জিয়া) এখনো বেশ অসুস্থ। এখনো তার চিকিৎসা চলছে। চিকিৎসকরা সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছেন।’

বিএনপি মহাসচিবের সঙ্গে ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সেলিমা রহমান।

এছাড়াও ঈদের পরদিন রোববার রাতে পৃথকভাবে গুলশানের বাসভবনে দলের চেয়ারপারসনের সঙ্গে দেখা করেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে বিএনপির মেয়র পদে নির্বাচন করা প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকার ছেলে প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন। তবে সাক্ষাতের বিষয়ে কোনো কথা বলতে চাননি শাহজাহান ওমর।

জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা: ঈদের দিন শনিবার সকালে রাজধানীর শেরবাংলা নগরে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মাজারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান বিএনপির সিনিয়র নেতারা। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া-মোনাজাত করেন তারা।

পরে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে ন্যূনতম আনন্দ নিয়ে ঈদ উদ্যাপন করতে পারছে না দেশের মানুষ। বর্তমান সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে টিকে আছে। সরকার পতনের আন্দোলনে সবাইকে শামিল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমান সংকট উত্তরণের একমাত্র হচ্ছে সরকারের পদত্যাগ। এই সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে, সংসদ বিলুপ্ত করতে হবে। একটা নিরপেক্ষ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনগণের সঙ্গে যাদের সম্পর্ক আছে, যাদের জনগণের প্রতি জবাবদিহি থাকবে, সেই ধরনের সরকার গঠন করতে হবে।

এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, ঢাকা মহানগরের আমিনুল হক, রফিকুল আলম মজনু, প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন, যুবদলের সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, শফিকুল ইসলাম মিল্টন প্রমুখ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাত, যে বার্তা দিলেন খালেদা জিয়া

আপডেট সময় : ০৫:৫২:৫২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৩

বিশেষ প্রতিবেদক:  প্রায় ১০ মাস পর দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বিএনপির সিনিয়র নেতারা। শনিবার ঈদুল ফিতরের রাতে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে স্থায়ী কমিটির আট সদস্য গুলশানের ভাড়া বাসা ফিরোজায় তার সঙ্গে দেখা করেন। রাত ৮টা থেকে এক ঘণ্টারও বেশি সময় তারা খালেদা জিয়ার সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময় করেন।

সাক্ষাৎ শেষে বেরিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, তিনি (খালেদা জিয়া) বার্তা দিয়েছেন দেশবাসী যেন গণতন্ত্রের জন্য যেভাবে কাজ করছেন, সেভাবে কাজ চালিয়ে যান।
মির্জা ফখরুল বলেন, অনেকদিন পর তাদের সঙ্গে দেখা হওয়ায় বিএনপি নেত্রী দেশের বর্তমান অবস্থা এবং ভবিষ্যৎ সম্পর্কেও জানতে চেয়েছেন। তারা এসব বিষয়ে তাকে অবহিত করেছেন।

বিএনপির নেতারা জানান, দীর্ঘদিন পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবার ব্যতিক্রম ঈদ করেছেন। কারণ, এই ঈদে খালেদা জিয়ার সঙ্গে রয়েছেন তার পুত্রবধূ শর্মিলী রহমান এবং দুই নাতনি জাফিয়া রহমান ও জাহিয়া রহমান। ঢাকার গুলশানের বাসভবন ফিরোজায় তারা ঈদের আনন্দ ভাগ করেছেন। খালেদা জিয়ার বোন সেলিমা ইসলাম ও ভাই শামীম এস্কান্দারসহ পরিবারের সদস্যরা ঈদের দিন দুপুরে তার সঙ্গে দেখা করেন। নাতনি, পূত্রবূধসহ ভাই-বোনদের নিয়ে দুপুরের খাবার খান খালেদা জিয়া।

প্রসঙ্গত, প্রয়াত আরাফাত রহমানের স্ত্রী এবং দুই মেয়ে খালেদা জিয়ার সঙ্গে ঈদ করার জন্য কয়েকদিন আগে লন্ডন থেকে ঢাকায় এসেছেন।

সাক্ষাৎ শেষে বিএনপি মহসচিব বলেন, ‘সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি (খালেদা জিয়া) কারাগারে আটক দলের নেতাকর্মীদের বিষয়েও জানতে চেয়েছেন। তাদের যে কষ্ট, সে সম্পর্কে তিনি অবহিত আছেন। দেশের হাজার হাজার মানুষের বিরুদ্ধে যে মিথ্যা মামলা, সেগুলো সম্পর্কেও তিনি অবহিত আছেন। যেভাবে দ্রব্যমূল্য বাড়ছে, অর্থনীতির অবস্থা যে দিনদিন খারাপ হচ্ছে, তা অবহিত আছেন।

অনেকদিন পর দলের চেয়ারপারসনের সঙ্গে দেখা হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘কারাগারে যাওয়ার পর তার সঙ্গে সাক্ষাৎ আমাদের অনেক সীমিত ছিল। তিনি বাসায় আসার পর ঈদের দিনগুলোয় তার সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পাই। অনেকদিন পর সেজন্য সবাই কিছুটা আবেগাপ্লুত ছিলাম। আশা করি, তার সঙ্গে আরও ঘন ঘন সাক্ষাৎ হবে এবং সামনে বেরিয়ে আসবেন।’

খালেদা জিয়া এখনো অসুস্থ জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, তিনি (খালেদা জিয়া) এখনো বেশ অসুস্থ। এখনো তার চিকিৎসা চলছে। চিকিৎসকরা সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছেন।’

বিএনপি মহাসচিবের সঙ্গে ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সেলিমা রহমান।

এছাড়াও ঈদের পরদিন রোববার রাতে পৃথকভাবে গুলশানের বাসভবনে দলের চেয়ারপারসনের সঙ্গে দেখা করেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে বিএনপির মেয়র পদে নির্বাচন করা প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকার ছেলে প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন। তবে সাক্ষাতের বিষয়ে কোনো কথা বলতে চাননি শাহজাহান ওমর।

জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা: ঈদের দিন শনিবার সকালে রাজধানীর শেরবাংলা নগরে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মাজারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান বিএনপির সিনিয়র নেতারা। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া-মোনাজাত করেন তারা।

পরে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে ন্যূনতম আনন্দ নিয়ে ঈদ উদ্যাপন করতে পারছে না দেশের মানুষ। বর্তমান সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে টিকে আছে। সরকার পতনের আন্দোলনে সবাইকে শামিল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমান সংকট উত্তরণের একমাত্র হচ্ছে সরকারের পদত্যাগ। এই সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে, সংসদ বিলুপ্ত করতে হবে। একটা নিরপেক্ষ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনগণের সঙ্গে যাদের সম্পর্ক আছে, যাদের জনগণের প্রতি জবাবদিহি থাকবে, সেই ধরনের সরকার গঠন করতে হবে।

এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, ঢাকা মহানগরের আমিনুল হক, রফিকুল আলম মজনু, প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন, যুবদলের সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, শফিকুল ইসলাম মিল্টন প্রমুখ।